নবম পে-স্কেলে ৮ ধরের ভাতা সমূহ

নবম পে-স্কেলে ৮ ধরনের ভাতা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে মূল বেতনের পাশাপাশি চিকিৎসা, বাড়িভাড়া, শিক্ষা, যাতায়াত, টিফিন, মোবাইল ও আপ্যায়নসহ বিভিন্ন ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

চিকিৎসা ভাতা

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য মাসিক চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার টাকা। অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরা বয়স অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতা পাবেন।

এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীরা নিজ মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে প্রতিবছর বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন।

বাড়িভাড়া ভাতা

কর্মস্থল ও বেতন গ্রেড অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ বাড়িভাড়া পাবেন।

অন্যান্য বিভাগীয় শহর, সাভার ও কক্সবাজার এলাকায় এই হার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে পদমর্যাদা অনুযায়ী ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।



উৎসব ভাতা

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক উৎসব ভাতা বহাল থাকবে। অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরা নিট পেনশনের সমপরিমাণ হারে বছরে দুটি উৎসব ভাতা পাবেন।

শিক্ষা সহায়ক ভাতা

সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়া যাবে। সন্তানের বয়স ২৩ বছর পর্যন্ত এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য সন্তানপ্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

ভ্রমণ ভাতা

ভ্রমণ ভাতায় আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের বিধি ও সুযোগ-সুবিধা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরবর্তী সময়ে ভ্রমণ ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে।

টিফিন ও যাতায়াত ভাতা

১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন। সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরতদের জন্য মাসিক ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতার বিধান রাখা হয়েছে।

মোবাইল ও ধোলাই ভাতা

৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা মাসে ৫০০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন। ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এই ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা।

এ ছাড়া নির্ধারিত পদের কর্মীরা মাসে ৩০০ টাকা ধোলাই ভাতা পাবেন।

আপ্যায়ন ও অন্যান্য ভাতা

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বা মুখ্য সচিব মাসে ২ হাজার টাকা, সচিব ১ হাজার টাকা, অতিরিক্ত সচিব ৯০০ টাকা এবং যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ৬০০ টাকা আপ্যায়ন ভাতা পাবেন।

চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা কার্যভার ভাতা দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯ম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের প্রশিক্ষকরা মূল বেতনের ১০ শতাংশ প্রেষণ ভাতা পাবেন।

পাহাড়ি এলাকায় কর্মরতরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং হাওড় বা চর এলাকায় দায়িত্ব পালনকারীরা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।

ঝুঁকিপূর্ণ সেবায় নিয়োজিত নির্দিষ্ট পদের কর্মীদের জন্য বিদ্যমান ঝুঁকি ভাতা ও বিশেষ সুবিধাও বহাল রাখা হয়েছে।

নতুন ভাতা কবে থেকে কার্যকর?

নতুন পে-স্কেলের ভাতা নিয়ে প্রজ্ঞাপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হলেও বর্ধিত ভাতা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত সব ধরনের ভাতা বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, নতুন স্কেলে নির্ধারিত বর্ধিত ভাতার হার ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

অর্থাৎ, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন মূল বেতন কার্যকর হলেও ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভাতার ক্ষেত্রে পুরোনো হার বহাল থাকবে। ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হারে ভাতা পাওয়ার কথা রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ